সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাত মাসে বাংলাদেশজুড়ে শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ১৫,৭১৭টি সাধারণ ডায়েরি (GD) হয়েছে—অর্থাৎ প্রায় ১৬ হাজার। কিছু শিশু পরে ফিরে আসলেও বর্তমানে নিখোঁজ শিশুর সংখ্যাও ১৪ হাজারের বেশি। বাংলাদেশ পুলিশের ওয়েবসাইটেও মাসভিত্তিক অপরাধ পরিসংখ্যান প্রকাশিত হচ্ছে। MUN alert নামের এই পেইজটিতে বিস্তারিত তথ্য পাবেন।
প্রায় ১৬ হাজার GD-কে শুধু একটি সংখ্যা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। প্রতিটি সংখ্যার পেছনে একটি শিশু, একটি পরিবার এবং একটি সম্ভাব্য বিপর্যয় আছে। এই শিশুদেরকে অপহরণ করে মুক্তিপণ চাওয়া হচ্ছে এমনটা নয়। নাহলে তারা যাচ্ছে কোথায়? কী কী ঘটছে তাদের সাথে?
সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো হলো—
1. অপহরণ বা জোর করে আটকে রাখা — মুক্তিপণ, প্রতিশোধ বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে শিশুকে আটকে রাখা হতে পারে।
2. শিশু পাচার — অন্য জায়গায় নিয়ে গিয়ে পরিচয় গোপন করে শোষণ করা হতে পারে। UNICEF-এর ২০২৫ সালের বাংলাদেশবিষয়ক গবেষণায় শিশুদের ক্ষেত্রে জোরপূর্বক শ্রম, যৌন শোষণ, বাল্যবিবাহ ও অনিরাপদ অভিবাসন-সংক্রান্ত পাচারের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
3. শিশুশ্রমে বাধ্য করা — কারখানা, ওয়ার্কশপ, হোটেল, বাসাবাড়ি, কৃষিকাজ বা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করা হতে পারে।
4. যৌন নির্যাতন বা যৌন শোষণ — এটি সবচেয়ে গুরুতর আশঙ্কাগুলোর একটি। বিশেষ করে অপরিচিত প্রাপ্তবয়স্কের প্রলোভন বা অনলাইন যোগাযোগের মাধ্যমে শিশুকে ফাঁদে ফেলার ঘটনাও ঘটতে পারে। বাংলাদেশে ২০২৫ সালে একটি ১১ বছর বয়সী শিশু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক প্রাপ্তবয়স্কের যোগাযোগের পর নিখোঁজ হয়েছিল—UNICEF ঘটনাটিকে শিশু সুরক্ষার গুরুতর ঝুঁকি হিসেবে তুলে ধরেছিল।
5. বাল্যবিবাহ বা জোরপূর্বক সম্পর্ক — বিশেষ করে কিশোরীদের ক্ষেত্রে এটি একটি বাস্তব ঝুঁকি; পাচারের সঙ্গেও এর যোগ থাকতে পারে।
6. শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন — শিশুকে ভয় দেখানো, মারধর, বন্দি রাখা কিংবা দীর্ঘদিন পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার ফলে গভীর মানসিক আঘাত হতে পারে।
7. অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার — কিছু ক্ষেত্রে শিশুদের ভিক্ষাবৃত্তি, চুরি, মাদক পরিবহন বা অন্যান্য অবৈধ কাজে ব্যবহার করার ঝুঁকি থাকে।
8. অনলাইনে প্রলোভন ও শোষণ — গেম, Facebook, Messenger, TikTok বা অন্য প্ল্যাটফর্মে পরিচিত হয়ে কেউ শিশুকে বাস্তবে দেখা করার জন্য প্রলুব্ধ করতে পারে। প্রযুক্তির মাধ্যমে শিশুদের শোষণের ঝুঁকি বিশ্বব্যাপীও বাড়ছে।
আরো কিছু আশঙ্কা আছে। পেইজ ব্লকের সম্ভাবনা আছে বলে বিস্তারিত লিখছিনা। আশা করি চিন্তা করলেই আপনারা বের করতে পারবেন।
শিশু নিখোঁজ, অপহরণ, পাচার বা নির্যাতনের ঝুঁকি কমাতে বাবা-মায়ের সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। তবে শিশুকে ভয় দেখিয়ে নয়—আত্মবিশ্বাসী ও সচেতন করে গড়ে তুলতে হবে।
👨👩👧 বাবা-মায়ের করণীয়
১. শিশুর সঙ্গে খোলামেলা সম্পর্ক তৈরি করুন:
শিশু যেন কোনো বিপদ, ভয়, অস্বস্তি বা অপরিচিত কারও আচরণ সম্পর্কে নির্ভয়ে বাবা-মাকে বলতে পারে। “তুমি বললে বকা দেব না”—এই বিশ্বাসটা তৈরি করা খুব জরুরি। UNICEF-ও শিশুদের সঙ্গে খোলামেলা যোগাযোগ ও বিশ্বস্ত প্রাপ্তবয়স্কের কাছে সমস্যা জানানোর ওপর গুরুত্ব দেয়।
২. অপরিচিত ব্যক্তির ব্যাপারে বাস্তবসম্মত শিক্ষা দিন:
শুধু “অপরিচিতের সঙ্গে কথা বলবে না” বললেই যথেষ্ট নয়। শেখান—
* কারও সঙ্গে কোথাও যাওয়ার আগে বাবা-মাকে জানাতে হবে।
* কেউ খাবার, খেলনা, টাকা বা উপহার দিলেও অনুমতি ছাড়া নেওয়া যাবে না।
* কেউ “তোমার মা-বাবা আমাকে পাঠিয়েছে” বললেও আগে ফোন করে নিশ্চিত হতে হবে।
* ভয় দেখালে বা জোর করলে আশপাশের নিরাপদ বড় মানুষের সাহায্য চাইতে হবে।
পরিচিত ব্যাক্তির সাথেও কোথাও যাওয়ার আগে জানিয়ে যেতে শেখান। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এখন দেখা যাচ্ছে কাছাকাছি থাকা অল্প পরিচিত মানুষ বা কাছের দোকানে কাজ করা কেউ শিশুদের নিয়ে যাওয়ার সাথে জড়িত।
৩. শিশুর পরিচয় ও দৈনন্দিন রুটিন সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করবেন না
স্কুলের নাম, বাসার ঠিকানা, ফোন নম্বর, প্রতিদিন কখন কোথায় যায়—এসব তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ না করাই ভালো।
৪. শিশুকে জরুরি যোগাযোগের তথ্য মুখস্থ করান
বয়স অনুযায়ী শিশুকে অন্তত বাবা-মায়ের ফোন নম্বর, নিজের নাম, এলাকার নাম এবং প্রয়োজনে কার কাছে সাহায্য চাইতে হবে—এসব শেখান।
৫. স্কুলে যাওয়া-আসায় নিয়ম তৈরি করুন
ছোট শিশু হলে নির্ভরযোগ্য অভিভাবক/পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে যাতায়াতের ব্যবস্থা করুন। স্কুল থেকে কে শিশুকে নিয়ে যেতে পারবেন, তা আগে থেকেই নির্ধারণ করুন। হঠাৎ অন্য কেউ নিতে এলে স্কুলকে যাচাই করতে বলুন।
৬. অনলাইন নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিন 📱
বর্তমানে শিশুর নিরাপত্তা শুধু রাস্তা বা স্কুলের বিষয় নয়। অনলাইনে অপরিচিত ব্যক্তি বন্ধুত্ব করে শিশুর বিশ্বাস অর্জন করতে পারে। UNICEF ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি, অবস্থান, ক্যামেরা/মাইক্রোফোনের অনুমতি এবং অ্যাপের privacy settings সম্পর্কে সতর্ক থাকতে বলেছে।
শিশুকে শেখান:
* অপরিচিত অনলাইন বন্ধুর সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার নয়।
* ঠিকানা, স্কুল, ফোন নম্বর, পাসওয়ার্ড বা ব্যক্তিগত ছবি দেওয়া যাবে না।
* কেউ গোপন রাখতে বললে অবশ্যই বাবা-মাকে জানাতে হবে।
* অস্বস্তিকর মেসেজ/ছবি এলে লজ্জা না পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে জানাতে হবে।
৭. শিশুকে মারধর বা অতিরিক্ত ভয় দেখাবেন না
শিশু ভুল করলে এমন পরিবেশ তৈরি করা উচিত নয় যে সে শাস্তির ভয়ে সত্য ঘটনা লুকিয়ে ফেলবে। নিরাপত্তার জন্য শিশুর সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্কই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। বাংলাদেশে শিশুদের শারীরিক শাস্তি ও মানসিক আগ্রাসন নিয়ে UNICEF বিশেষভাবে উদ্বেগ জানিয়েছে।
৮. শিশুর আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন হলে খেয়াল করুন
হঠাৎ খুব চুপচাপ হয়ে যাওয়া, কারও ফোন/মেসেজ নিয়ে অস্বাভাবিক ভয়, স্কুলে যেতে না চাওয়া, অতিরিক্ত গোপনীয়তা—এসব দেখলে শান্তভাবে কথা বলুন। তবে প্রমাণ ছাড়া কাউকে অভিযুক্ত করবেন না।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো: “আমার সন্তান আমার কথা শুনবে”—এর চেয়ে “আমার সন্তান বিপদে পড়লে আমাকে সব কথা বলবে”—এই সম্পর্ক তৈরি করা বেশি জরুরি। শিশুকে শুধু “অপরিচিতকে ভয় পেতে” শেখাবেন না; বরং বিপদ চিনতে, “না” বলতে, নিরাপদ জায়গায় যেতে এবং বাবা-মাকে সবকিছু বলতে শেখান।
আশা করি আমাদের সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এই হারানো বাচ্চাদের উদ্ধারে তৎপরভাবে কাজ করবে।
#MUNAlert #Children #safetytips #childmissingcase #safety
Electronics
Fashion & Gifts
Beauty
Appliances
Groceries
Kids Toys
Digital Items
Printer & Copier
Stationery
Gadget
Foysal Computer